অভিবাসন ইস্যুতে এবার ইতালিতে ‘বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা’ বিল পাস
বিদেশবার্তা২৪ ডেস্ক:
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল থামাতে দেশজুড়ে ছয় মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর, এবার আগতদের ‘বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা’ সীমিত করার বিল অনুমোদন করেছে ইতালি সরকার। এখন এ বিলটি আইনে পরিণত হতে নিম্নকক্ষের অনুমোদন দরকার। আগামী ১০ মে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নিম্মকক্ষ৷
নতুন এ বিলটি আইন আকারে পাশ হলে, অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি আরো জোরদার হবে এবং তাদের সমাজে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে৷
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে ৯০ জনেরও বেশি অভিবাসী মারা যান৷ ওই ঘটনার পর অনিয়মিত অভিবাসীদের ঠেকাতে জর্জা মেলোনির সরকার এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করে৷ সংসদের উচ্চকক্ষে বৃহস্পতিবার বিলটি অনুমোদন দিয়েছে ইতালির রক্ষণশীল সরকার৷ ৯২-৬৪ ভোটে বিলটি পাশ হয়েছে।
বিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি বলেছেন, এই আইনে মানবপাচারকারীদের জন্য কঠোর শাস্তি ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে৷ এর মূল উদ্দেশ্য হলো, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যেন পাচারকারীদের ওপর আস্থা না রাখে এবং অনিয়মিত পথে ইতালি আসতে নিরুৎসাহিত হয়৷
তবে সমালোচকদের দাবি, এটি একটি নিপীড়নমূলক বিল এবং উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ঢল থামাতে তেমন কোনো প্রভাবই ফেলবে না৷ বরং অনিয়মিত পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা৷
এই বিলের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ‘বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা’৷ এটি নিয়েই সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ কারণ মেলোনি সরকারের অনেকেই এই বিধানটি বাদ দেয়ার পক্ষে৷ বিলটি আইন আকারে পাশ হলে, এই বিধানটিকে আরো সীমিত কিংবা বাদ দেয়া হতে পারে৷
বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় কোনো অভিবাসী আশ্রয় পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হলেও অন্তত দুই বছর তাকে ইতালিতে থাকার সুযোগ দেয়া হতো৷ বিশেষ করে, কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিজ দেশ ফেরত পাঠানোর যদি মানবিক ঝুঁকির শঙ্কা থাকে কিংবা ইতালিতে যদি কোনো পারিবারিক সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে সরকার তাকে এই বিশেষ সুরক্ষা দিত৷ এর আওতায়, দুই বছর পরেও ইতালিতে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ ছিল অভিবাসীদের৷
ইতালিয় সরকার বলছে, এই সুযোগটির অপব্যবহার করা হচ্ছে৷ ২০২২ সালে সাত হাজার ৪৯৪ জনকে শরণার্থী মর্যাদা এবং সাত হাজার ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেয়ার বিপরীতে ১০ হাজার ৫০৬ জনকে বিশেষ সুরক্ষা দিয়েছিল ইতালি। এই বিলটি আইন আকারে পাশ হলে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ইতালির ভাষা শিক্ষার সুযোগও হারাবেন অভিবাসীরা৷ এমনকি, শরণার্থীদের আশ্রয় শিবিরগুলোতে আইনি পরামর্শ সেবার পথও বন্ধ হয়ে যাবে৷
Related News
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ডRead More
ভারতীয়দের ভিসার আবেদন গণহারে বাতিল করছে আমিরাত
ভারতীয়দের ভিসার আবেদন গণহারে বাতিল করছে আমিরাত দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনাকারী ভারতীয় পর্যটকদের জন্য সংযুক্ত আরবRead More


