Main Menu

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসেও ভরসা রাখতে পারছেন না শাবি শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক:
উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। অনশন ভাঙার পর উপাচার্যের বাসভবন, একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের হস্তক্ষেপে আপাতত সংকট কেটেছে। কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কাটেনি ভীতি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে এখন বিরাজ করছে উপাচার্য ভীতি। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ স্বপদে বহাল থেকে যাওয়ায় শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের শঙ্কা। তবে আন্দোলনকারীরা কোনভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না এমন আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। শিক্ষক সমিতির নেতারাও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মনে থেকে তবুও যেন কাটছে না উপাচার্য ভীতি। তবে অনশন ও অবরোধ প্রত্যাহার করলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে যখন শাবি উত্তাল সেই সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ভার্চুয়াল মিটিং করেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করেন তারা কোন ধরনের হয়রানির শিকার বা তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না। শিক্ষামন্ত্রীর এমন আশ্বাসেও ভরসা রাখতে পারেননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একদফায় গড়িয়েছিল। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তারা আমরণ অনশন করেছে। তাই অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ উপাচার্য পদে বহাল থেকে গেলে তিনি এর প্রতিশোধ নেবেন। আন্দোলনকারী ও অনশনকারীদের তিনি ছেড়ে দেবেন না। নানা অজুহাতে তিনি তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্থ করবেন।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ও জাফর ইকবাল স্যারের আশ্বাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন স্থগিত করেছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের উপর এই আন্দোলনের কোনো প্রভাব যে পড়বে না তার নিশ্চয়তা কতটুকু? পরীক্ষার খাতা, ল্যাব অথবা ভাইভায় পড়তে পারে এর প্রভাব। তখন কাকে গিয়ে আমাদের কথা বলব? আর বললেও কি আমাদের কথা তখন কেউ শুনবে? তখন তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও যেতে পারবো না। তাই এই উপাচার্য আমাদের জন্য মোটেই নিরাপদ নন।’

ফেস মার্কিংয়ের ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তানভীন হাসান বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী যদিও আশ্বাস দিয়েছেন তথাপি কোন শিক্ষার্থীকে যদি কোন শিক্ষক টার্গেট করেন সেক্ষেত্রে ইচ্ছে করলেই তাকে একাডেমিক্যালি ক্ষতি করতে পারেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বর্তমানে ফেস মার্কিং নিয়ে শঙ্কিত এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি খুব বেশি চলমান।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘প্রত্যেক আন্দোলনের পর আমরা দেখি যে বা যারা আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকেন তাদের শিক্ষা জীবনে প্রশাসন কিংবা বিভাগ থেকে খড়গ নামে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাঝে এই শঙ্কা রয়েই গেছে।’

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে কোন সংকট তৈরি হলে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে নিশ্চয়তা দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ মহিবুল আলম।

অবরোধ প্রত্যাহার: আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, চারটি একাডেমিক ও দুইটি প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে তালা খুলে দিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগসহ আমাদের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করা হবে- জাফর ইকবাল স্যার এরকম প্রতিশ্রুতি দেয়ায় আমরা অনশন ভেঙ্গেছি এবং তাঁর অনুরোধে অবরোধও প্রত্যাহার করেছি। উপাচার্য বাসভবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ অবরোধের আওতায় থাকা সকল ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়েছে ও অবরোধ উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে আমাদের অবরোধ প্রত্যাহার হলেও উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

এদিকে ১৭ জানুয়ারি অবরোধ শুরু হওয়ার দশ দিন পর শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রমের ব্যাপারে কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, অবরোধ প্রত্যাহার হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দপ্তরে কিছু কর্মকর্তারা আসলেও দাপ্তরিক কোন কার্যক্রম চলেনি।

‘কেমন চাই শাবিপ্রবি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা: গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘কেমন চাই শাবিপ্রবি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টরিয়াল বডি নিয়োগ, সিনিয়র জুনিয়রদের আড্ডাস্থল ও খাবারের দোকান ‘টং’ স্থাপন, সাংস্কৃতিক মুক্তচর্চা অব্যাহত রাখাসহ আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রভোস্টের অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। এর জের ধরে তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে এবং পরে পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের অর্ধশত লোক আহত হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা অনশনে যান। তাদের এক দফা দাবি ‘উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যš’Í অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে সাতদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন হকের প্রতিশ্রুতিতে সেই অনশন ভাঙ্গে অনশনকারীরা ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.