প্রবাসী স্বামী টাকা দেন না, শিশুপুত্রকে ভিক্ষুকের কোলে ফেলে গিয়েছিলেন মা!
নিউজ ডেস্ক:
লক্ষ্মীপুরে ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া শিশুর মায়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শিশুটির মাসহ পরিবারের লোকজন সদর থানায় আসেন ভিক্ষুকের কাছে রেখে যাওয়া শিশুপুত্রকে ফিরিয়ে নিতে। তবে প্রকৃত অভিভাবকরা ওই শিশুকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন আদালতের মাধ্যমে।
শিশুটি এখন বেলাল হোসেন-নিশি আক্তার নামে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে রয়েছে। তারা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা গেছে, ভিক্ষুকের কাছে ফেলে যাওয়া শিশুটির মায়ের নাম সুরমা বেগম। তার আরও তিন মেয়ে আছে। শিশুপুত্রটির বয়স তিন মাস। নাম রেখেছেন মাহিন। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের চরসীতা গ্রামে।
তাদের বাবার নাম মিরন, তিনি সৌদি প্রবাসী। শিশুটির মা জেলা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়কে সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিন মেয়েকে সেখানে একটি মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন। সুরমার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর উভূতি গ্রামে।
কেন সুরমা তার তিন মাস বয়সী ফুটফুটে শিশুপুত্রকে বৃদ্ধা ভিক্ষুকের কাছে রেখে নিরুদ্দেশ হলেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ ও সাংবাদিকরা এর কারণ জানতে চাইলে শিশুর মা সুরমা বলেন, আমার স্বামী সৌদিতে থাকেন। চার সন্তান নিয়ে আমি জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। প্রতি মাসে ১১ হাজার টাকা কিস্তি, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের খরচ লাগে। সব মিলিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হয়। মুদি দোকানে অনেক দেনা হয়ে আছি। তাদের বাবা কোনো খরচ দেয় না। তাই তার ওপর জিদ করে এ কাজটি করেছি। শিশু সন্তানকে ভিক্ষুকের কোলে দিয়ে অন্য সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি ভবানীগঞ্জের মিয়ারবেড়িতে চলে গিয়েছিলাম। ছেলেকে না নিয়ে যাওয়ায় পরিবারের লোকজন আমাকে বকাঝকা শুরু করে। পরে বুঝতে পেরেছি, কাজটি ঠিক করিনি। বুকের ধনকে রেখে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। ঘটনার পরদিন সকাল থেকে তাকে খুঁজতেছি। কোথাও পাইনি। পরে বিকেলের দিকে পরিচিত একজন ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির বিষয়ে জানতে পারে। তার মাধ্যমে থানায় আসি।
এদিকে বুধবার (১ মার্চ) বিকেলে পুলিশ শিশুটিকে ভিক্ষুকের কোল থেকে উদ্ধারের পর স্থানীয় কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন মাহমুদের তত্ত্বাবধানে দেয়ে। কাউন্সিলর তার নিঃসন্তান আত্মীয়ের ঘরে লালন-পালনের জন্য রাখেন শিশুটিকে। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে শিশুটিকে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। তার দায়দায়িত্ব সমাজসেবা কার্যালয়কে দেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। পরে ওই নিঃসন্তান দম্পতি আদালতের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের আবেদন জানালে শর্ত সাপেক্ষে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে পাওয়ার পর আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় দিই। পরদিন আমরা শিশুটিকে আদালতে সোপর্দ করি। আদালত থেকে ওই দম্পতিকে লালন-পালনের দায়িত্ব দিলেও শর্ত ছিল শিশুটির পরিবারকে পাওয়া গেলে তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এখন তার মা এবং পরিবারের খোঁজ মিলেছে। আমরা আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেব। আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে শিশুটিকে আদালতের মাধ্যমে নিতে পারবেন তার মা। তবে সে সময় পর্যন্ত শিশুটি ওই নিঃসন্তান দম্পতির কাছে থাকবে।
Related News
মোহাম্মদপুরে আবারও কিশোর গ্যাংয়ের চাপাতির তাণ্ডব, একই পরিবারের ৬ জন আহত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার জাফরাবাদ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব ও এলোপাতাড়ি চাপাতির কোপে অন্তত ৬ জনRead More
ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার হত্যার আগে কী ঘটেছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষার্থী।Read More


