Main Menu

সোহেল রানা হত্যা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

বিদেশবার্তা২৪ ডেস্ক:
ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশি সোহেল রানাকে হত্যার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত ২১মে ভোর রাতে কাজ থেকে বাসায় ফেরার সময় তার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। চার দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫শে মে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সোহেল।

মৃত্যুর খবর ফ্রান্স বাংলাদেশি কমিউনিটির ছড়িয়ে পড়লে হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। প্রথমদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশ ট্যাগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। তারা ফেসবুকে ফ্রান্স পুলিশ প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে #JusticePourSohelRana এবং #PréfecturedePolice লিখে প্রতিবাদ জানান।

ফ্রান্সের সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা সোহেল রানা হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন এবং প্যারিস পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে গত রোববার (৫ জুন) রাজধানী প্যারিসে ‘জাস্টিজ পুখ’ ‘সোহেল হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে বিক্ষোভ কর্মসূচি মার্চ প্লাস দ্য বাস্তিল থেকে শুরু হয়ে রিপাবলিক চত্বরে শেষ হয়।

সোহেল রানা যেখানে হামলার শিকার হন সেই জায়গায় ‘প্লাস দ্য বাস্তিল’ দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকেন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্যারিসে এ পর্যন্ত ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে হওয়া কোনো ঘটনায় এটাই সবচেয়ে বড় মানববন্ধন। এ সময় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ফ্রান্স প্রবাসী সোহেল রানার এই নির্মম হত্যার প্রতিবাদে শামিল হন।

সোহেল রানার দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। তিনি সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে। সোহেলের স্ত্রী ও তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

সোহেল রানার মৃত্যুতে ফ্রান্স প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া এখনও বিরাজ করছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি মানববন্ধনে অংশ নেয়া শাহা আলম মায়া প্যারিস মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভিনদেশী দুষ্কৃতকারীরা ফ্রান্স প্রবাসীদের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করে। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না এবং প্রতিবাদ জানাতে পারি না, আজকে এই এক জায়গায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এবং এদেশের প্রশাসনের দৃষ্টিতে আনার যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করছি।

ফ্রান্স যুবলীগের আরেক নেতা দবির মোহাম্মদ বলেন, আজকের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা প্যারিসের পুলিশকে জানান দিতে পেরেছি যে আমাদের একজন ভাইকে হত্যা করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার করবে এদেশের প্রশাসন।

স্থানীয় স্তা-মেরির কাউন্সিলর কৌশিক রাব্বানী তিনি অন্যতম একজন সমন্বয়ক ছিলেন এই আন্দোলনের। তিনি বলেন, আজকে প্রবাসীরা প্রমাণ করেছে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করতে পারে এবং রুখে দিতে পারে। সোহেল রানা হত্যা মামলাটি এখনো তদন্তনাধীন। আজকের এই আন্দোলনটি প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ করবে। আবার ভিলা জামে মসজিদের খাদেম সালেহ আহমদ। তিনি বলেন, আজকের দিনটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। কারণ এই প্রথম ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রবাসীরা তাদের এক ভাইয়ের হত্যার দাবিতে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তায়েফ আহমদ মৌলভীবাজার জেলা যুব সমিতির সেক্রেটারি। তিনি বলেন, আজকের এই আন্দোলনে হাজার হাজার প্রবাসীর উপস্থিতি হতো কারণ ও প্রবাসের মাটিতে প্রবাসীরা ব্যস্ত থাকে কাজে। তারপরও যে কয়েক হাজার প্রবাসী আজকে এখানে একত্রিত হয়েছে সোহেল হত্যার প্রতিবাদে এতে করে এদেশের পুলিশ প্রশাসনের অবশ্যই দৃষ্টিতে আসবে এবং তারা সুষ্ঠু বিচারের জন্য তদন্ত দ্রুত শেষ করবে। প্যারিসের অন্যতম একটি সামাজিক সংগঠন এর প্রেসিডেন্ট এমডি নূর বলেন, সোহেল রানা কে কেন হত্যা করা হয়েছে তার পিছনের রহস্য এদেশের প্রশাসনের উচিত দ্রুত উন্মোচন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ফ্রান্সের এসন বিভাগের কাউন্সিলর এনকে নয়ন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ সোহেল রানা হত্যার বিচার করবে এদেশের প্রশাসন। কিন্তু পাশাপাশি সোহেল রানার স্ত্রী এবং সন্তান অনিয়মিত তাদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের । এই জোর দাবি জানান তিনি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.