Main Menu

বৈধপথে দিল্লি যাওয়া বাংলাদেশিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে ভিডিও

নিউজ ডেস্ক:
ভারতে একটি ফেসবুক পেজ থেকে বৈধভাবে দিল্লিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। মূলত ওই পেজটি থেকে কিছু ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেগুলোতে বৈধভাবে দিল্লি যাওয়া বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে।

ভিডিওগুলো যারা শেয়ার করছেন তাদের মধ্যে বিজেপি নেতাও রয়েছেন।

ভারতে ভুয়া খবর খোঁজার ওয়েবসাইট অল্ট নিউজ বলছে, ওই সব কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কয়েকজনকে আর তারা যে বৈধ উপায়ে ভারতে বেড়াতে বা অন্য কাজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন, সেই প্রমাণ তারা পেয়েছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে বলা হয়েছে- ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের মতো বুম হাতে দিল্লির শাহিনবাগ এলাকায় মুসলমানদের কাছে জানতে চাইছেন যে তিনি কোথা থেকে এসেছেন। কীভাবে ভারতে এসেছেন? বিমানে না কাঁটাতার পেরিয়ে না জলপথে?

প্রায় চার মিনিটের এরকম একটি ভিডিওতে প্রায় ৩০জনকে দেখানো হয়েছে, যারা প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে তারা বাংলাদেশি।

তাদের কেউ যখন জবাব দিয়েছেন যে তারা মাল্টার দূতাবাসে ভিসা নিতে এসেছেন, সেই জবাব এড়িয়ে গেছেন ওই ভিডিও নির্মাতা।

কাউকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে পয়সা, অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে ভারতে এসেছেন কি না। হিন্দি ঠিকমতো না বুঝে এক বাংলাদেশি জবাব দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভিসার জন্য এসেছি।’ অর্থাৎ পয়সা (হিন্দিতে পইসা) কথাটাকে ওই বাংলাদেশি শুনেছেন ভিসা। কারণ ভিডিওতে এরপর তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ – ভিসা!’

অনেকেই বলেছেন যে ভিসার কাজ শেষ হলে তারা বাংলাদেশে ফিরে যাবেন।

দু’দিন ধরে ভিডিওগুলো আপলোড করার পরের দিন একটা দীর্ঘ ফেসবুক লাইভ হয়েছে ওই পেজ থেকে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে কাজ করে অল্ট নিউজ। তারা যোগাযোগ করে এক আরবাব আলি নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে।

আরবাব আলী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভিডিওগুলি থেকে ৩০টিরও বেশি চেহারার স্ক্রিনশট নিয়ে আমি শাহিনবাগের বিভিন্ন মসজিদে ঘুরি। ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে কথা বলি। এরকম চারটি মসজিদে ঘোরার পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারি যে এই ব্যক্তিরা জুমার নামাজ পড়তে আসেন ঠিকই, কিন্তু প্রায় দু কিলোমিটার দূরের একটি এলাকা থাকেন।

সেখানে গিয়ে এমন কয়েকজন বাংলাদেশিকে খুঁজে পান আরবাব আলি, যাদের ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রথমে ওই বাংলাদেশি নাগরিকরা কথাই বলতে চাননি, কারণ ততক্ষণে তারাও আগের ভিডিওটি দেখে ফেলেছিলেন এবং সেখানে যে তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটাও তারা জেনে গিয়েছিলেন।

কয়েকজন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকার রেকর্ড করে আরবাব আলি বুঝতে পারেন যে কোনো প্রেক্ষিত না বলেই তাদের কাছে ওই ভিডিও নির্মাতা শুধু জানতে চেয়েছিলেন যে তারা কোথা থেকে এসেছেন। ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আরবাব আলি আরও জানতে পারেন যে এদের একটা বড় অংশই এসেছেন মাল্টায় যাওয়ার ভিসা নিতে।

বাংলাদেশে মাল্টার কোনো দূতাবাস নেই, তাই বাংলাদেশিদের দিল্লিতে গিয়ে মাল্টার ভিসা নিতে হয়। আর ভারতেও তারা যে বৈধ ভিসা নিয়েই এসেছেন, সেই প্রমাণও দেখেছেন সাংবাদিক আরবাব আলি।

অল্ট নিউজের যে সাংবাদিক এই ভুয়া খবরের সত্যতা যাচাই করে একটি সংবাদ লিখেছেন, সেই অর্চিত মেহেতার নজরে পড়েছে যে ভিডিওগুলো শুধুমাত্র ফেসবুকেই দেওয়া হয়েছে, ইউটিউব বা টুইটারে নয়।

তিনি বলেন, একটা বিষয় খেয়াল করবেন যে ভিডিওগুলো কিন্তু শুধুই ফেসবুকে দেওয়া হয়েছে। ইউটিউব বা টুইটারের মতো অন্য কোথাও নেই এটা। কারণটা স্পষ্ট – (হিন্দুত্ববাদী) ইকোসিস্টেমের সবথেকে বেশি ফলোয়ার ফেসবুকেই আছে। সব থেকে বেশিবার যাতে দেখা হয় আর শেয়ার হয়, সেজন্যই ফেসবুককে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.