Main Menu

ইতালি থেকে এসেছে প্রথম মৃতদেহ, মাদারীপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

নিউজ ডেস্ক:
ভূমধ্যসাগরের প্রচণ্ড ঠান্ডায় প্রাণ হারানো সাত জনের মধ্যে একজন ইমরান হোসেনের (২৩) মরদেহ এসেছে বাড়িতে। দাফনের আগে শেষবারের মতো ইমরানের মুখ দেখে নিচ্ছিলেন স্বজনেরা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে লাশ দাফন করা হয় বাড়ির সামনের একটি খালপাড়ে।

ইমরানের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর এলাকায়। লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ঠান্ডায় মারা যান মাদারীপুরের পাঁচ তরুণ। তাঁদের মধ্যে ইমরানের লাশ দেশে পৌঁছেছে।

তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন ইমরান। তাই ভাইয়ের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। বোনদের বুকভাঙা আর্তনাদ ক্রমেই বাড়ছিল। তাদের মধ্যে ছোট বোন নাসিমা আক্তার এবার মাধ্যমিকে পরীক্ষা দিয়েছে। ফলও ভালো। ভাইয়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে নাসিমা থেমে থেমে যা বলছিল, ‘ওরে ভাই রে ওঠ, তোরে আমি ক্যামনে ভুলমু। ওঠ ভাই ওঠ, তোর লগে কথা কমু। তুই ছাড়া আমার স্বপ্ন পূরণ করবে কে? আমাগো যে সব শ্যাষ হইয়া গেল।’

গত ২২ জানুয়ারি রাতে বাংলাদেশ, মিসরসহ বিভিন্ন দেশের ২৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় করে লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রা শুরুর এক দিন পর ভূমধ্যসাগরে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের পর টানা বৃষ্টি হয়। নৌকাটি ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে ইতালিয়ান কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করেন। এ সময় নৌকা থেকে সাত বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের পাঁচজনই মাদারীপুরের।

ইমরানের পরিবার জানায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে স্থানীয় সামাদ ব্যাপারী নামের এক দালালের মাধ্যমে গত ২৫ অক্টোবর ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে লিবিয়া পৌঁছান ইমরান। সেখানে বাংলাদেশি দালালেরা ইমরানসহ বেশ কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে। পরে টাকার জন্য চালানো হয় নির্যাতন। একপর্যায়ে ইমরানের পরিবার তাদের জমিজমা বিক্রি করে তিন লাখ টাকা দেয় সিলেটের আহম্মেদ নামের আরেক দালালকে। চুক্তি অনুযায়ী কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার কথা হয়। কিন্তু ইতালি পৌঁছান ইমরানসহ মাদারীপুরের পাঁচ তরুণের লাশ।

মারা যাওয়ার ১৯ দিন পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমরানের লাশ পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামে মরদেহ আনা হয়।

ইমরানের বাবা ও ভ্যানচালক শাজাহান হাওলাদার (৬০) বলেন, ‘আমার ভাগ্যডা খারাপ। নয়তো এভাবে পোলাডারে বিদাশে পাঠামু ক্যান! ওই–বা যাওয়ার লিগা পাগল হবে ক্যান! এক পোলা আমার তা–ও এভাবে চইলা গেল। এহন আমরা কার ধারে কী দাবি করমু, কী বিচার চামু? সবই তো শ্যাষ আমার।’

ইমরানের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ইমরানের পরিবারকে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ দিন এ খাবার চলবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.