Main Menu

রোহিঙ্গাদের ফেরতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি চীনের

ডেস্ক রিপোর্ট:
রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। শনিবার ঢাকা সফরে এসে রোববার এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই প্রতিশ্রুতি দেন।

ওয়াং ই আরও জানান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু করেছে চীন। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বেইজিংয়ের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়িঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার বাড়ি প্রস্তুতও করা হয়েছে। যেসব রোহিঙ্গা ফেরত যাবেন, তাদেরকে প্রাথমিকভাবে খাদ্য সহায়তাও দেবে চীন।

এপিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন আমাদের সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছে। এজন্য বেইজিংকে আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

চীনে কর্মরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুনশি ফাইজ আহমেদ এপিকে বলেন, ‘চীনের সহযোগিতা ব্যতীত বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুবই কঠিন।’

২০১৭ সালে আরাকানে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা করার অভিযোগ ওঠে সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে। এই হামলার জের ধরে বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হামলা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমারে জাতিগতভাবে রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতেই ২০১৭ সালে এই গণহত্যা চালিয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের তথ্য উপাত্তের ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর সম্প্রতি ফের শুরু হয়েছে বিচার কার্যক্রম।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে অবশ্য ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দু’বার চেষ্টা করেছিল চীন। সালে মিয়ানমারের তৎকালীণ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ক একটি চুক্তি করেছিল বেইজিং।

কিন্তু মিয়ানমারে ফেরত গেলে দেশটির সেনাবাহিনী ফের চড়াও হতে পারে, এই শঙ্কায় সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন নিজ দেশে ফেরত যেতে চাননি। সূত্র: এপি, ডয়েচে ভেলে






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.