Main Menu

একমাসের ব্যবধানে আবারো সিলেটে বন্যা

বিদেশবার্তা২৪ ডেস্ক:
ফের বন্যায় ডুবল সিলেট নগরী। একমাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে সিলেটে ফের বন্যা পরিস্থাতির সৃষ্টি হয়েছে। আবারও পানি উঠে পড়েছে নগরীর অনেক এলাকায়। একমাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুই দফা বন্যায় দুর্ভোগে পড়ছেন নগরীর এসব এলাকার বাসিন্দারা। নগরীর অপেক্ষাকৃত নিচু ও সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বুধবার দুপুর থেকেই নগরীর উপশহর, তালতলা, কালিঘাট, মাছিমপুর, ছড়ারপাড়, তেররতন, ঘাসিটুলাসহ অন্তত ১০টি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সময় সময় বাড়ছে এসব এলাকার পাানি। রাতে এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে।

এদিকে, সিলেটে কতকয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবারও দিনভর বৃষ্টি অব্যাহত ছিলো। অব্যাহত আছে ঢলও। ফলে বেড়েই চলছে নদনদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সরফ উদ্দিন বলেন, বুধবার দুপুরেই উপশহরের বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে বাসায় পানি ঢুকে পড়ে। পানি বৃদ্ধি এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত মাসেই বন্যায় বাসা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো। প্রায় একসপ্তাহ বাসায় পানি ছিলো। এসময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহও বন্ধ ছিলো। অনেক দুর্ভোগের পর পানি নামে। এখন আবার একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

নগরের ঘাসিটুলা এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা কাদির আহমদও জানান, একমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বাবের মতো তার বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। আমরা গরিব মানুষ। বারবার এইভাবে ঘরে পানি ঢুকে পড়লে যাবো কই? ঘরের জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে যায় পানিতে।

নদী উপচে পানি ঢুকে পড়েছে নগরের বৃহৎ পাইকারী বাজার কালিঘাট এলাকার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কালিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন দাশ টুকু বলেন, আগের মাসের বন্যার ক্ষতিই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এখন আবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছি। এভাবে বারবার বন্যা হলে ব্যবসা করবো কিভাবে?

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার এক মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েই চলেছে। বিপৎসীমা পার করেছে সারি ও কুশিয়ারা নদীর পানি। এছাড়া লোভা নদীর পানিও বাড়ছে।

এর আগে গত এপ্রিলে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে অসময়ে বন্যা দেখা দেয়। এরপর মে মাসের মাঝামাঝিতে সিলেটে ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়।

এই রেশ না কাটতেই আবারও বন্যা দেখল সিলেটবাসী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ।

জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য ৪৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিতদের সহায়তায় বুধবার ২৯৮ টন চালও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছেন উপজেলার সদর, পূর্ব ও পশ্চিম জাফলং, মধ্য জাফলং, পূর্ব ও পশ্চিম আলীর গাও, রুস্তমপুর, তোয়াকুল, লেংগুড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান, উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

কানাইঘাট পৌর শহরের পূর্ব বাজারে মঙ্গলবার রাত থেকে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে অনেক দোকানপাট। উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ও পশ্চিম, চতুল, সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

সীমান্তবর্তী আরেক উপজেলা জকিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শ শ মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৩৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে ছয়টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা পরিষদ, থানাসহ একাধিক সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও লুসিকান্ত হাজং বলেন, কয়েক দিন আগে শেষ হওয়া বন্যা পরিস্থিতির চেয়েও এখন পানি বেশি এসেছে। উপজেলার বেশিরভাগ এলাকাই প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট এমনকি অফিস আদালতেও পানি উঠেছে। বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ কমাতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছে। উপজেলায় ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.