Main Menu

ফজরের জামাত চলার সময় সুন্নত পড়া যাবে কি?

ধর্ম ডেস্ক:
অনেক সময় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, জামাত শুরু হয়ে গেছে কিংবা নামাজের ইকামত চলছে। এমন অবস্থায় দ্বিধা-দ্বন্ধে পড়ে যাই, সুন্নত পড়ব কিনা। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো- এমতাবস্থায় দেখতে হবে— সুন্নত পড়ে ইমাম সাহেবকে কমপক্ষে দ্বিতীয় রাকাতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা? সম্ভাবনা থাকলে সুন্নত পড়ে জামাতে শরিক হবে। কারণ, একাধিক সাহাবি ও তাবেয়ি থেকে ইকামত শুরু হওয়ার পর জামাত চলাবস্থায় ফজরের সুন্নত আদায় করার কথা প্রমাণিত আছে।

এক. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আশআরী ও হুযায়ফা (রা.) একবার সাঈদ ইবনে আসের নিকট থেকে বের হলেন। ইতিমধ্যে ফজর নামাজের ইকামত হয়ে গেল। তখন ইবনে মাসউদ (রা.) দু’রাকাত সুন্নত পড়ে লোকদের সঙ্গে নামাজে শরীক হলেন, আর আবু মুসা আশআরী ও হুযায়ফা (রা.) কাতারে প্রবেশ করলেন। (শরহু মাআনীল আসার, ১/২৫৫)

দুই. আবু মিজলায (রাহ.) বলেন আমি ফজর নামাজে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদে এমন সময় প্রবেশ করলাম যে ইমাম নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তখন ইবনে আব্বাস (রা.) দু’রাকাত সুন্নত পড়ে ইমামের সঙ্গে শরীক হলেন। আর ইবনে ওমর (রা.) ইমামের সঙ্গে নামাজে শরীক হয়ে গেলেন। ইমাম সালাম ফেরানোর পর তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকলেন অতপর উঠে দুরাকাত নামাজ আদায় করলেন। (প্রাগুক্ত : ১/২৫৫)

তিন. আবু দারদা (রা.) বলেন আমি একদা লোকদের নিকট এমন সময় আসি যে তারা কাতারবদ্ধ হয়ে ফজর নামাজ আদায় করছিল। আমি তখন ফজরের দু’রাকাত সুন্নত আদায় করি অতপর তাদের সাথে নামাজে শরীক হই। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ৬৪৮২)

চার. নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনে ওমর (রা.) একদা ফজর নামাজের জন্য পোশাক পরিধান করছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি ইকামত শুনতে পেলেন, তিনি তখন কামরাতে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করলেন অতপর বের হয়ে লোকদের সাথে ফরজ আদায় করলেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৪০১৯)

পাঁচ. আবু উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবু দারদা রা. কখনো মসজিদে এসে দেখতেন, ফজরের জামাত চলছে। তিনি মসজিদের এক কোণায় (ফজরের) দুই রাকাত (সুন্নত) পড়ে নিতেন। তারপর জামাতে শরীক হতেন। (শরহু মাআনিল আসার : ১/৬২১)

ছয়. যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর রা. মসজিদে এসে দেখেন, ফজরের জামাত চলছে। কিন্তু তাঁর ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) পড়া হয়নি। তিনি হাফসা রা.-এর কামরায় তা পড়লেন। তারপর জামাতে শরীক হলেন। (শরহু মাআনিল আসার : ১/৬২১)

সাত. আবু উসমান নাহদী রাহ. বলেন আমরা ওমর রা.-এর নিকট ফজরের সুন্নত না পড়ে এসে যদি দেখতাম যে তিনি ফজরের জামাতে আছেন তাহলে আমরা মসজিদের শেষ দিকে এসে সুন্নত পড়ে নিতাম অতপর জামাতে শরীক হতাম। (শরহু মাআনীল আছার ১/২৫৬)

তাবেয়িদের মধ্যে আরো যাদের থেকে ফজরের জামাত চলাবস্থায় সুন্নত পড়া প্রমাণিত আছে তারা হলেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর, হাসান বসরী, ইকরিমা, ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.)। ইবনে বাত্তাল (রহ.) উমর (রা.) এর আমলও এমন ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।

কোনো কোনো সাহাবি, তাবেয়ি ইকামত বা জামাত চলাবস্থায় মসজিদের অভ্যন্তরে ফজরের সুন্নত না পড়লেও মসজিদের বাহিরে বা মসজিদের দরজা সংলগ্ন স্থানে পড়ে নিতেন। তন্মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.), হাম্মাদ, আবদুর রহমান ইবনে মা‘কিল, আতা, ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) উল্লেখযোগ্য।

উপরোক্ত সাহাবা, তাবেয়িদের বর্ণনা, আমল ও ঘটনাবলী থেকে একথা সুপ্রমাণিত যে, ফজরের ইকামত চলার সময় বা ইকামতের পরও মসজিদের বাহিরে বা কাতার থেকে দূরে মসজিদের বারান্দায় বা কোনায় কিংবা খুঁটির আড়ালে ফজরের সুন্নত পড়া জায়েজ।

প্রশ্নটি করেছেন : আলহাজ আবদুর রউফ






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.