Main Menu

ওসমানী বিমানবন্দরে পাঁচ বছরে ৬ হাজার ভরি স্বর্ণ জব্দ!

রফিকুল ইসলাম কামাল, অতিথি প্রতিবেদক:
দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের অন্যতম প্রধান রুট হয়ে ওঠেছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত এই বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান করে চলেছে। কখনো-সখনো অবৈধ চালান এখানে ধরা পড়ে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত প্রায় পাঁচ বছরে ৬ হাজার ভরিরও বেশি স্বর্ণ ধরা পড়েছে। তবে মূলহোতারা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার অভিনব কায়দায় স্বর্ণ চোরাচালানের সময় আলী আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উজান মেহেরপুর দরগারবাজার এলাকায়। তার কাছে থাকা নেব্যুলাইজার মেশিনের মধ্য থেকে ১ কেজি ১৬০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে গতকাল (২৭ মে) অবধি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণের ২০টি অবৈধ চালান আটক করা হয়। এসব চালানে জব্দ করা হয় ৬ হাজার ১৩৪ ভরি স্বর্ণ। জব্দকৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন অবধি এ বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। তৎকালীন বাজারদর হিসেবে এসব স্বর্ণের মূল্য ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা।

এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে হিসেব করলে এখন অবধি প্রায় ১১২ কেজি স্বর্ণ ওসমানী বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে। প্রায় আড়াই মণ ওজনের এসব স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কাছ থেকেই সিংহভাগ সোনা জব্দ করা হয়। সোনা চারাচালানে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। কখনো নিজের শরীরে পেঁচিয়ে, কখনো বিমানের সিটের নিচে টেপ দিয়ে আটকিয়ে, কখনোবা জুসের মেশিনের ভেতরে সোনা চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সোনার বার আনা হয়।

সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে সোনা চোরাচালানের সবচেয়ে নিরাপদ রুট ছিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কয়েক বছর আগে এই বিমানবন্দরের সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বলা হয়, এখানে সোনার চোরাচালান ঢুকলে বা ধরা পড়লে এর পুরো দায়ভার কর্মকর্তাদের নিতে হবে। শুধু তাই নয়, চোরাচালানের নেপথ্যে কারা আছে, তাও বলতে হবে। এমন সতর্কবার্তায় শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালান কমে আসে। তবে চোরাচালানিরা এবার বেছে নেয় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরকে।

শুল্ক গোয়েন্দাদের তথ্য মতে, সোনা চোরাচালানে বিভিন্ন বিমান পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিমানবন্দরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। ফলে অনেক বড় চালানই ধরা পড়ে না। সাধারণ যেসব যাত্রী সোনা নিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়েন, তারা মূলত কিছু টাকার বিনিময়ে বাহক হিসেবেই কাজ করেন। সোনা কোনোরকমে বিমানবন্দর পার হলেই চলে যায় চক্রের হাতে।

গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। স্বর্ণ চোরাচালানে বিমানের অনেকেই জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী বৈধভাবে শুল্ক দিয়ে সর্বোচ্চ ২০ ভরি বা দুটি সোনার বার বিদেশ থেকে আনতে পারেন। এজন্য প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হয়। কেউ যদি বার না এনে ১০০ গ্রাম বা সাড়ে আট ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার আনেন, তবে তাকে শুল্ক দিতে হয় না। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের সিংহভাগই নিয়ম জানেন না। এই সুযোগই নিচ্ছে চোরাচালানচক্র। তারা যাত্রীদের কাছে সোনার বড় চালান দিয়ে দেশে পাঠাচ্ছে। বিমানবন্দরে ধরা না পড়লে সেই চালান চক্রের হাত ধরে দেশের সোনার বাজারে ঢুকে পড়ে।

এদিকে, ওসমানী বিমানবন্দরে অবৈধ স্বর্ণ ধরা পড়লেও মূল চোরকারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণসহ যাদেরকে ধরা হয়, তারা হোতাদের নাম প্রকাশ করে না। ফলে হোতাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী বলেন, বিমানবন্দরে স্বর্ণ ধরা পড়লে থানায় মামলা হয়। পুলিশ তদন্ত করে। যে আসামি ধরা পড়েন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আসামি নিজেই চালান নিয়ে এসেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। অন্য কেউ জড়িত নয় বলে স্বীকারোক্তি দেন। এরপর পুলিশের কিছু করার থাকে না।

তিনি জানান, আসামির স্বীকারোক্তি অনুসারেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.