Main Menu

মিলছে না মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

বিদেশবার্তা২৪ ডেস্ক:
মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। গত দুই বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চেষ্টার সুফলও মেলে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু ভিসার জন্য আটকে গেছে তার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন। কারণ, দেশটির দূতাবাস থেকে ভিসা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না তিনি।

নূর উদ্দিন বলেন, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। লক্ষ্য ছিল উচ্চ শিক্ষাটা দেশের বাইরে গিয়ে করব। সেজন্য পড়াশোনা শেষ হলেও চাকরির চেষ্টা করিনি। গত দুই বছরের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়েছি। কিন্তু ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছি না। খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে স্কলারশিপটা আবার বাতিল হয়ে যায় কি না?

মাহবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গত বছরের শেষের দিকে ফি জমা দিয়েছেন। তিনিও দূতাবাস থেকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না। মাহবুব বলেন, চলতি বছরের ‘ফল’ সেমিস্টারের জন্য ফি জমা দিয়েছি। ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে ফান্ড বাতিল হতে পারে। সাধারণত এ ফান্ডের ভ্যালিডিটি এক বছর থাকে। ফান্ড বাতিল হলে নিজের টাকায় পিএইচডি করতে হবে, যেটা আমার পক্ষে সম্ভব না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না তারা। এটি পেতে বিলম্বিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন। তারা বৃত্তি ও নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত কয়েক বছর শিক্ষর্থীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য তাদের স্বপ্নের দেশে যেতে পারেননি। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অনেকে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, নতুন করে আবেদন করা অনেক শিক্ষার্থীও সাড়া পেয়েছেন সেখানে যাওয়ার। কিন্তু ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে ভিসা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলছে না তাদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না তারা। এটি পেতে বিলম্বিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন। তারা বৃত্তি ও নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলছে, করোনা মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালে প্রায় আট হাজার ৮০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে অ-অভিবাসী বা এফ-ওয়ান ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়া হয়েছে। যা ছিল রেকর্ড সংখ্যা। তবে করোনা মহামারির সময় আটকে পড়া এবং নতুন করে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর আবেদন পড়ায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। যে কারণে একসঙ্গে সবাইকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছেন। নতুন এবং করোনা মহামারির কারণে আটকে যাওয়া সব আবেদন একসঙ্গে আসায় শিক্ষার্থীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া দূতাবাসে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেসব কর্মকর্তা আছেন তাদের পক্ষে এত আবেদন নির্দিষ্ট সময়ে দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সময় লাগছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ফল’ ও ‘স্প্রিং’ সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। আগস্টের শেষ থেকে সাধারণত ‘ফল’ সেমিস্টার শুরু হয়। ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এ সেমিস্টার শেষ হলে শুরু হয় ‘স্প্রিং’ সেমিস্টার। চলে মে পর্যন্ত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘ফল’ সেমিস্টারেই বেশি ভর্তি হন।

গত বৃহস্প‌তিবার মা‌র্কিন দূতাবা‌সের ভে‌রিফা‌য়েড ফেসবু‌ক পেজে এক বার্তায় চার্জ ডিলেগেট অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ ব‌লেন, আমরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিতে গভীরভাবে সচেতন। ভিসার জন্য আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দ্রুত পেতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ফল’ ও ‘স্প্রিং’ সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। আগস্টের শেষ থেকে সাধারণত ‘ফল’ সেমিস্টার শুরু হয়। ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এ সেমিস্টার শেষ হলে শুরু হয় ‘স্প্রিং’ সেমিস্টার। চলে মে পর্যন্ত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘ফল’ সেমিস্টারেই বেশি ভর্তি হন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভর্তির জন্য যোগাযোগ, আবেদন ইত্যাদি কার্যক্রম শুরু করতে হয় প্রায় এক বছর আগে। ভর্তির জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবশ্যক শর্ত হিসেবে দরকার হয় জিআরই/জিম্যাট-টোফেল/আইইএলটিএস। এ সবের প্রস্তুতিতে আরও এক বছর সময় চলে যায়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে যান। এটি বাধাগ্রস্ত করেছে করোনা মহামারি। যে কারণে পুরোনো-নতুন মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থী এবার আবেদন করেছেন। আমাদের সব শিক্ষার্থী যেন যেতে পারেন সে বিষয়ে দূতাবাসকে সহযোগিতা করতে বলেছি।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য বলছে, দেশটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে গেলে বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার টিউশন ফি লাগে। এছাড়া থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছে।

ইউনেস্কোর তথ্য বলছে, উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৯০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী বিদেশে যান। যার মধ্যে বড় একটি অংশ পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য বলছে, দেশটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে গেলে বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার টিউশন ফি লাগে। এছাড়া থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ফান্ডিংয়ের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্নাতক পর্যায়ে সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। তবে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে ‘ফল’ সেমিস্টার ধরতে পারবেন না। ভর্তি পেছানো লাগতে পারে। ফলে ফান্ডিং সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি।

ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আটকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে কি না— জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, করোনার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। আমরা দূতাবাসকে বলেছি, আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা যাতে দ্রুত তাদের দেশে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.