Main Menu

ইতালির তুসকানিতে কৃষি শ্রমিকদের শোষণ

নিউজ ডেস্ক:
ইতালির কৃষি খামারে দেশি ও বিদেশি শ্রমিকদের শোষণের ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে আবারো বেরিয়ে এসেছে মধ্য ইতালির তুসকানি অঞ্চলের তিনটি খামারে দেশি-বিদেশি শ্রমিকদের নানাভাবে বঞ্চিত করার চিত্র।

কৃষি খামারে ফুল বা অন্যান্য শস্য কুড়ানোর জন্য শ্রমিকদের দৈনিক ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। আর ঘণ্টা প্রতি মজুরি মাত্র আড়াই ইউরো। কখনো কখনো সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না। অধিকাংশ শ্রমিককেই চাকরির চুক্তিপত্র দেওয়া হয় না।

এই চিত্র বেরিয়ে এসেছে ইতালির পুলিশের এক তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, তুসকানি অঞ্চলের তিনটি খামারে কয়েকশ শ্রমিক এমন বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

শ্রমিকরা জানান, তাদেরকে প্রতিনয়তই চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

তবে তিন খামারিকে ইতিমধ্যে শ্রমিকদের শোষণ করার অভিযোগে আদালতে তলব করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশটির অর্থ অধিদপ্তর কর আদায় সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এই তিন খামারির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল সময়ে করা এই তদন্তে দেখা গছে, এই তিন খামারি ৮৫৭টি চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।

এর মধ্যে কোনো চুক্তিপত্র ছাড়াই ৫৭১ জন শ্রমিককে চাকরি প্রদান করা হয়। আর বাকি ২৮৩ জনের চাকরির চুক্তিপত্রও আইনি কাঠামো অনুযায়ী যথাযথ নয়।

পুলিশের করা ওই তদন্তে আরো বলে হয়, বিদেশি অনেক শ্রমিককে কৃষি জমিতেই বেআইনিভাবে কটেজ তৈরি করে থাকতে দেওয়া হয়। আর সেখানে পানীয় জল এবং শীতকালের জন্য ঘরে হিটিংয়ের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

এরপর এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলে জরিমানা বাবদ ৫৮ লাখ ইউরো প্রদান করে এই তিন খামারি।

খামারগুলোতে শ্রমিকদের থাকার খরচ তাদের বেতন থেকে কেটে রাখা হতো। তবে লেনদেনের কোনো প্রমাণপত্র রাখা হতো না। এভাবে সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ায় তিন উদ্যোক্তাকে দেড় লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়।

তাছাড়াও আয়কর, মূল্যসংযোজন করসহ আরো বেশ কয়েকটি খাতে কর প্রদান না করায় তাদের নানা অংকের জরিমানা করা হয়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.