Main Menu

সিলেটে পর্যটক কমে যাওয়ার শঙ্কা!

নিউজ ডেস্ক:
সিলেটে নিয়মিত ঘটছে পর্যটক হয়রানির ঘটনা। পর্যটকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ‘চাঁদা’ আদায়ের পাশাপাশি তাদেরকে করা হচ্ছে শারিরীকিভাবে লাঞ্ছিত। এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ না ঘটালে সিলেটের ক্ষেত্রে পর্যটকদের আস্থার সঙ্কট তৈরি হবে এবং নৈসর্গিক লীলাভূমির এ অঞ্চলে পর্যটক সমাগম কমে যাবে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পর্যটনের জন্য আদর্শ স্থান দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল সিলেট। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর স্থানগুলো নয়ন ভরে দেখতে দুই ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিতে ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। সিলেটও তাদের বরণ করে হয় ধন্য। এবারেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত দুই বছরের চার ঈদে বন্ধ ছিলো সিলেটের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ভ্রমণপ্রিয় লোকজনকে বাধ্য হয়েই অনেকটা বাসাবাড়িতে ঈদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস সারতে হয়েছিল। এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। এ কারণেই ঘরে বসে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠা পর্যটকরা সিলেটে ছুটে আসেন ঢলের মতো। ঈদের পরদিন থেকে সিলেট জেলার সবগুলো পর্যটনকেন্দ্রই হয়ে যায় লোকে লোকারণ্য।

কিন্তু এবার সিলেটের জাফলংয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক কালো অধ্যায়ের। প্রবেশ ফি নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পর্যটকদের উপর হামলা করে বেধড়ক পিটিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসবেকরা। নারীদের করা হয়েছে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা। হামলায় ৬ পর্যটক আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জাফলংয়ে প্রবেশ টিকেট কাটা নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা একটি পরিবারের উপর হামলা চালায় উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবীরা। স্বেচ্ছাসেবী নামক সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ওই পরিবারের পুরুষ ও নারী সদস্যদের রড ও পাইপ নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে মুল অভিযুক্ত দুইজনসহ ৫ জনকে আটক করে। পরে তাদের আদালমের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।

 

হামলার ঘটনার পর এক সপ্তাহের জন্য জাফলংয়ে প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে উপজেলা প্রশাসনে কর্তৃক আদায়কৃত এই প্রবেশ ফি সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে টিকেট প্রথা বাতিলের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনার পর আশঙ্কাজনক হারে জাফলংয়ে পর্যটকদের সংখ্যা কমেছে। সিলেট বেড়াতে আসা পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য প্রথম পছন্দ জাফলং হলেও এখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এই পর্যটন কেন্দ্র থেকে। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে সিলেট বেড়াতে এসেছেন নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা জাফলংমুখী হচ্ছেন না। ছুটির দিন হলেও গত শুক্রবার ও গত শনিবার জাফলংয়ে খুব বেশি পর্যটক সমাগম হয়নি। বৃহস্পতিবার যেখানে একদিনে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছিল সেখানে গেল দু’দিনে ২০-৩০ হাজারের বেশি পর্যটক যাননি।

 

এদিকে, জাফলংয়ের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় হলেও সিলেটে থামেনি পর্যটক হয়রানি। সিলেট নগরীর পার্শ্ববর্তী মালনীছড়া ও লাক্কাতুড়া চা বাগানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা প্রতিদিনই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাগানের ভেতর প্রবেশে চাঁদা দাবি করছেন শ্রমিকরা। পর্যটকদের কাছে জনপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করেন শ্রমিকরা। চাঁদা না দিলে ঢুকতে দেয়া হয় না পর্যটকদের। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে পর্যটকরা দুর্ব্যবহার ও হামলার শিকার হচ্ছেন।

 

ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন সিলেট নগরীর পার্শ্ববর্তী চা বাগানগুলোতে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক সমাগম হয়। বিশেষ করে বিকেলে পর্যটকদের ঢল নামে চা বাগানগুলোতে। কিন্তু বাগানে প্রবেশ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকদের সাথে চা শ্রমিকদের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

গক শনিবার বিকেলে মালনীছড়া বাগানে বেড়াতে যান পর্যটকরা। এসময় বাগানে প্রবেশের জন্য চাঁদা দাবি করেন শ্রমিকরা। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান কয়েকজন পর্যটক। ফলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। পরে অন্যান্য পর্যটক ও কয়েকজন চা শ্রমিকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

 

পর্যটক হয়রানির বিষয়ে পর্যটন বিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডি ইনবাউন্ড) পরিচালক জহিরুল কবীর চৌধুরী শিরু বলেন, দেশের পর্যটন স্পটগুলোর পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সেবার মানের উপর দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেকাংশে নির্ভরশীল। সিলেটে এবার ঈদের ছুটিতে যেসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে তাতে এখানকার পর্যটন খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখনই এর প্রতিকার করা না গেলে আমাদেরকে বড় মাশুল গুনতে হবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.