Main Menu

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর আত্মহত্যা, পলাতক স্ত্রীর প্রেমিক গ্রেফতার

বিদেশবার্তা২৪ ডেস্ক:
রাজধানীর বনানী এলাকার শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শেখ সোহেব সাজ্জাদ। স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক এবং মানসিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ওই প্রবাসীর স্ত্রী সাবরিনা শারমিন (৩০) ও তার প্রেমিক কাজী ফাহাদের (২৭) বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ।

দায়েরকৃত মামলায় ইতোমধ্যে শুক্রবার (৬ মে) মামলার দুই নম্বর আসামি কাজী ফাহাদকে ওয়ারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পলাতক রয়েছেন এক নম্বর আসামি নিহতের স্ত্রী সাবরিনা শারমিন।

পরিবারের অভিযোগ, কাজী ফাহাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান সাবরিনা। এতে বাধা দেওয়ায় ফাহাদ ও সাবরিনা প্রতিনিয়ত সাজ্জাদকে মানসিক নির্যাতন করতেন। যার মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসলিমা আক্তার জানান, গ্রেফতার কাজী ফাহাদকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। অপর আসামি সাবরিনাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

মামলার এহাজার সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাজ্জাদের বাবার নাম শেখ তৌফিক আহমেদ। তাদের বাড়ি ওয়ারীর ওয়ারস্ট্রিট রোডে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় সূত্রে সেখানেই ২০১৭ সালে সাজ্জাদ ও সাবরিনার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে সাবরিনা একা দেশে ফিরে শ্বশুরবাড়ি ওয়ারীতে বসবাস শুরু করেন।

সে সময় ওই বাড়ির পাশের বাসার ভাড়াটে কাজী ফাহাদের সঙ্গে পরিচয় হয় সাবরিনার। এক-পর্যায়ে তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সাজ্জাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জেনে গেলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। ফাহাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার বিষয় নিয়ে প্রায়ই সাজ্জাদের সঙ্গে ঝগড়া করতেন সাবরিনা। এ অবস্থায় গত ১৬ মার্চ দেশে ফেরেন সাজ্জাদ।

দেশে ফেরার পর শ্বশুরবাড়িতেই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন সাজ্জাদ। এ সময় কৌশলে স্বামীর আমেরিকান পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন নিয়ে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন শুরু করেন সাবরিনা। পরে এসব ফেরত না দিয়ে ১৫ এপ্রিল সাবরিনা বাসা থেকে চলে যান।

সাজ্জাদ ও তার শ্বশুর ফোন করে সাবরিনা এবং কাজী ফাহাদের কাছে পাসপোর্ট ও ফোন ফেরত চান। কিন্তু তারা সেসব না দিয়ে সাজ্জাদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে ৩০ এপ্রিল শ্বশুরের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সাজ্জাদ। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে সাবরিনা ও ফাহাদের বিরুদ্ধে ১ মে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.