Main Menu

গোলাপগঞ্জে ‘চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর অ্যাপ্রোচ ভেঙ্গে বেহাল অবস্থা: দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কে.এম.সুহেল আহমদ:
‘চন্দরপুর- সুনামপুর সেতু’ সিলেট গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর চন্দরপুর ও সুনামপুর অংশে নির্মিত এই সেতু। সেতুটি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার এ দু’টি উপজেলার হাজারো মানুষের ও নিত্য যাতায়াত এই সেতু দিয়ে।
কিন্তু সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডটির অবস্থা বেহাল। রাস্তাটি ভেঙ্গে ব্লক ও নিচের মাটি চলে গিয়ে মরণকূপ গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে শত শত যানবাহন। জানমালের ঝুঁকি থাকলেও অ্যাপ্রোচ রোড সংস্কারের কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত নেই।
গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার অন্তত ৩০-৪০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করে থাকেন। কিন্তু ভেঙে যাওয়া অ্যাপ্রোচ রোড সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এই সেতু ও সড়কের সাইটের পিলারগুলো ও ভেঙে পড়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নজর নেই সেদিকেও।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দরপুর- সুনামপুর সেতুর মুখের পূর্বদিকের অ্যাপ্রোচ অংশটি একেবারেই ভেঙে হেলে পড়েছে। সেতু থেকে সড়কে নামার খাড়া অংশটুকু পাড়ি দিতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে যানবাহনকে এবং চলাচলরত সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় চালক ও যাত্রীরা বলছেন, সড়কের পার্শ্বের দশা এমন যে, বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত ভারি বর্ষনের ফলে ব্লকগুলো ভেঙ্গে নিচের বালি চলে গিয়ে বিরাটাকারের মরণকূপ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের বিশ্বরোডটি বন্ধ হয়ে যাবার আশংকা।
আবার এছাড়া সেতুর পশ্চিম দিকের সুনামপুরবাজার অংশে একই ধরনের ভাঙনের লক্ষণ দেখছেন তারা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংযোগ সড়কটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
ঢাকাদক্ষিণ,রায়গড়,সুনামপুর, ইসলামপুর, চন্দরপুর, বানিগাজী,কালিডহর, বনগ্রাম, বাগিরঘাট, লামা চন্দরপুর,ওলিমপুর,খাগাইল, তিলপাড়া,মাটিজুরা,বেজগ্রাম,নালবহর, মিনারাই ও কান্দিগ্রাম সহ অন্তত ৪০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন ‘চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু’ দিয়ে।
এই সংযোগ সড়কের অবস্থা যেমন বেহাল, তেমনি সেতুর এক পাশের অংশেও ভাঙন দেখা দিতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ সেতু ও এপ্রোচ সড়কের ভঙ্গুর অংশটুকু দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সেতুর পূর্ব দিকের উত্তর অংশে নিচের মাটি চলে গিয়ে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় পুরো রাস্তা ভেঙ্গে গাড়ি চলাচলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠিক করা না হলে এলাকাবাসীর জন্য পথটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সেতুর এহেন অবস্থার প্রেক্ষিতে বুধবারীবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দীন কামাল বলেন, এই ব্রিজের অ্যাপ্রোচের দুই অংশ ঠিক রাখতে হলে গভীর নিচ থেকে মজবুত করে প্রোটেক্টিভ ওয়াল দিয়ে কাজ করতে হবে। তা না করতে পারলে বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই কিছু কিছু অংশ করে ভাঙতে থাকবে।
তিনি বলেন, এছাড়াও সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব দিকের খাড়া পিলার গুলো ও অনেকাংশ ভেঙ্গে যাওয়াতে দূৃর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় সেটিও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
বানিগাজী গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুস সালাম বলেন, প্রায় ২০/২৫ দিন আগে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি। আমি এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপজেলা সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা বদরুল ইসলামকে অবগত করলে তিনি নিজে এসে স্থানটি দেখে যান এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে কথা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)গোলাপগঞ্জের প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সেতুর এপ্রোচ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
আমি নিজে গত ২২ এপ্রিল(শুক্রবার) সেতুটি পরিদর্শনে আসি কিন্তু ভেঙ্গে যাওয়া স্থানটি আমার চোখে পড়েনি বা স্থানীয় কেউ এ ব্যাপারে অবহিত করেন নি বলে জানান। এছাড়াও তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি আপনাকে কে বলেছে?
প্রতুত্তরে প্রতিবেদক বললেন সরেজমিন ভেঙ্গে যাওয়া গর্তের বিষয়টি নিজ চোখে দেখেছি এ তার ছবি ও তুলে নিয়ে এসেছি।
প্রতিবেদকের একথা শুনে বললেন, সেতুর সংস্কার কাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের ; আমাদের না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জেলা পর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন প্রতিবেদককে।
চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু’ ও অ্যাপ্রোচ রোড ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি যদি দ্রুত পদক্ষেপে সংস্কার না করা হয় তবে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকছে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার সহ দুই উপজেলার মানুষ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.