Main Menu

ইউক্রেনের ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে ফায়দা লুটছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানের পর এরই মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো এখনো প্রতিনিয়ত দেশটির ভেতর ও বাইরে এখনো অনেক মানুষ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। যাদের সুরক্ষা ও সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষের অর্ধেকই প্রতিবেশি পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। দেড় লাখ মানুষ হাঙ্গেরিতে আশ্রয় নিয়েছেন, বাকিরা মলদোভা, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়ায় বিপুল শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। ইউক্রেনের পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হতে পারে।

এমন অবস্থায় ইউক্রেনের বাস্তুচ্যুত ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার নাম করে আরও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিজেদের দখলে নেয়ার ছক কষছে ইসরায়েল।

আল জাজিরা এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে তেমনটাই দাবি করছে।

এরই মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আমরা ইউক্রেনের ইহুদিদের ইসরাইলে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ এটা তাদের আদি নিবাস। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে শতাধিক ইউক্রেনীয় ইহুদি ইসরাইলে আশ্রয় নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা আগামী সপ্তাহগেুলোতে অন্তত ১০ হাজার ইউক্রেনীয় ইহুদি ইসরায়েলে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইসরায়েল চাচ্ছে, ইউক্রেনের ইহুদিরা তাদের দেশে চলে যাক। ওই ভূখণ্ডে মুসলিমের চেয়ে ইহুদির সংখ্যা বৃদ্ধি পাক।

বিশ্ব ইহুদি সংগঠন ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অরগানাইজেশনের বসতি নির্মাণ দপ্তর এরই মধ্যে ইউক্রেন থেকে ইসরায়েলে আশ্রয় নেয়া বা ভবিষ্যতে ইসরাইলে যাবে এমন ইহুদিদের জন্য এক হাজার বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস’-এর অধ্যাপক লানা তাতৌর বলেছেন, ‘ ইউক্রেন যুদ্ধটাকে ইসরায়েল দেশটিতে ইহুদি জনসংখ্যা বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই নিয়েছে। ইসরায়েল কিন্তু সব ইউক্রেনীয় শরণার্থীর জন্য সীমান্ত খুলে দেয়নি, তারা কেবল বেছে বেছে ইউক্রেনের ইহুদিদেরকেই নিচ্ছে।’

ইহুদি শরণার্থীদের একদিকে আশ্রয় দিচ্ছে ইসরাইল অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর বছরের পর বছর ধরে অত্যাচার-আগ্রাসন চালানো ইসরায়েল হঠাৎ ‘শান্তির দূত’ হয়ে উঠতে চাইছে। রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে চেয়ে হঠাৎই আলোচনায় উঠে এসেছেন দখলদার ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট।

তবে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের অবস্থান দেশটির জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে। একদিকে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা না জানালে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুরোনো মিত্রের চক্ষুশূল হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে সংযত অবস্থান নিয়েছেন বেনেট। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বারবারই ইউক্রেনের জনগণের পক্ষে তার সমর্থনের কথা বললেও সরাসরি মস্কোর নিন্দা জানাননি একবারও।

এক্ষেত্রে পুরোনো মিত্র পশ্চিমাদের মতো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পথে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে থাকায় স্বদেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন বেনেট।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.