Main Menu

অবশেষে সেই ‘মহাপ্রতারক’ আমিনুর গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক:
ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জাল ভিসায় দেশে লোক পাঠানোর ‘মহাপ্রতারক’ আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আমিন রহমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নিজগাঁওয়ের তোফাজ্জল আলীর ছেলে। তিনি নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৯৬ নম্বর বাসায় থাকতেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার পয়েন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আলী মাহমুদ বিয়ষটি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত ৩ শতাধিক লোকজনের টাকা আত্মসাৎ করেছে আমিন ট্রেভেলসের মালিক আমিনুর রহমান। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তৎপরতায় তিনি পালাতে পারেনি। ফের সিলেট ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এখন পর্যন্ত তিনি বিদেশ পাঠানোর নাম করে ২০ কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বুধবার আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করবেন।

জানা গেছে, নগরের হক সুপার মার্কেটের আমিন ট্রাভেলস নামক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন আমিনুর রহমান। তিনি ইউরোপ, কানাডা, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ৩ মাসের মধ্যে পাঠানোর নামে ৩শ লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যান। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি তার নামে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে আমিনুর। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে সব এয়ারপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ওয়ারলেস বার্তা পাঠানো হয়। যে কারণে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পেরে সিলেটে ফিরে আসছিলেন। পথিমধ্যে সিলেটে প্রবেশ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ৯০ দিনের মধ্যে ৬ লাখ টাকায় রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’। ওই বিজ্ঞাপন দেখে তারা ট্রাভেলসে যোগাযোগ করলে ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং ওয়ার্কপারমিট আসার পর আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে জানান। আর বাকি ৫ লাখ টাকা ভিসা হওয়ার পর দিতে হবে। এ ভাগে অন্তত; ৩শ লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের পাসপোর্টে লাগানো ভিসাও জাল ছিল। অনেককে ভিসা হওয়ার কথা বললেও পাসপোর্ট ফেরত দেননি আমিনুর।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেওয়া কথা জানিয়েছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে মোবাইল তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গোটারগ্রামের ভুক্তভুগী রুহুল আমিন বলেন, রোমানিয়ার যেতে তিনি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আমিনুরের হাতে তুলে দেন। ওয়ার্কপারমিটের কাগজ দেখিয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তিও করেন আমিনুর। ৩ মার্চ ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে ভারতস্থ রোমানিয়া দূতাবাসে ভিসার কপি পাঠালে সেখান থেকে জানানো হয়, এটি জাল ভিসা। এভাবে ভিসা জাল জালিয়াতি করে আসছিলেন আমিনুর।

মৌলভীবাজারের ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান জানান, রোমানিয়া যেতে বাড়ির জায়গা বিক্রি করে আমিনুরকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ফ্লাইট দেওয়ার আশ্বাসে আগের দিন তিনি ঢাকায় যান। কিন্তু বিকেল ৪টা থেকে আমিনুরের মোবাইলফোন বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীকে নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে গিয়ে মামলা দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে আমিন রহমান ট্রাভেলস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারক আমিনুরকে গ্রেফতার এবং আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারে সরকার তথা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শনিবার বিকেলে আমিনুরকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ২ জনের নামোল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগীরা একটি অভিযোগ দায়ের করলে রোববার মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.