Main Menu

যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ বাড়ির মালিক তালহা বখত

নিউজ ডেস্ক:
তালহা বলেন, “আপনি যদি মানি চেজ করতে চান তবে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। কিন্তু যদি কোনো উদ্দেশ্য সামনে রেখে পরিশ্রম করতে থাকেন তবে আপনি ক্লান্ত হবেন না, টাকা আপনাকে ধরা দেবে।”

আট বছর বয়সে ১৯৯১ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান তালহা। তালহা পড়াশোনা শুরু করেছিলেন বাণিজ্য বিষয়ে তারপর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়েছেন। শেষে হিউলেট প্যাকার্ড মানে এইচপিতে চাকরি নেন। তিনি চেয়েছিলেন, এমন কিছু করতে যাতে তার পরিবার গর্বিত হয়। ইংরেজীতেই তিনি সড়গড় তবে সিলোটি ভাষাও পারেন। বলছিলেন, তার আসলে ‘গ্রোয়িং মেন্টালিটি’ ছিল মানে এগোনোর ইচ্ছা ছিল।

“প্রথমে চাইছিলাম জব দিয়াই আউগ্যাইতে, আমার সিইও তখন বছরে ২৩ মিলিয়ন ডলার কামাইত। আমার ইচ্ছা হইছিল তার সমান কামাইতে। সে অনুযায়ী আমি মন দিয়ে কাজ করতে থাকি। আমি কম্পানিতে কুইকলি উন্নতি করছি। খুব কুইকলি। শুরু করছিলাম মিনিমাম স্যালারি দিয়ে কিন্তু চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই আমি প্রমোশন পেয়ে পেয়ে ভালো একটা পজিশনে চলে যাই। এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেছিলাম আমি এইচপিতে। তবে ব্যাপার কি জানেন, আমেরিকায় জব সিকিউরিটি নাই। আপনি যত ওপরে উঠবেন, তত আপনার পইড়া যাওয়ার রিস্ক থাকে। আমি প্রমোশন পেয়ে নতুন যে ডিপার্টমেন্টে গেলাম সেটা লে অফ হয়ে গেছিল তাই আমি চাকরি হারাইলাম। পরে কোম্পানী আমাকে নতুন আরেকটা ডিপার্টমেন্টে কাজ দিছিল, আমি জয়েনও করছিলাম তবে ডিফারেন্ট মাইন্ডসেট নিয়া। আমি জবের ওপর পুরা ভরসা রাখতাম না। পাশাপাশি প্ল্যান বি হিসাবে নতুন নতুন ব্যবসা খুঁজতাম। চাকরি শুরু করার আগেই কিন্তু আমি একটা ব্যাঙ্কোয়েট বিজনেস (ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ধরনের ব্যবসা) করতাম। তখন আমার বয়স ছিল ২৪। ৯০০ লোক আমার আন্ডারে তখন কাজ করতো। তখন আমার একটা হিউজ লিডারশিপ কোয়ালিটি ডেভেলপ করছিল। আমি অনেক টাকাও বানাইছিলাম।”

“কিন্তু স্টক মার্কেটের পতনে টাকাগুলো নষ্ট হয়ে গেছিল। ২০০৮ সালে আমি ইনভেস্ট করছিলাম আর ২০০৯ সালে মার্কেটটা ক্রাশ করে। টু হান্ড্রেড থাউজেন্ড ডলার নষ্ট হয়ে যায়। আমি জিরো হয়ে গেলাম। যাহোক আবার শুরু থেকে রেস্টুরেন্ট করলাম। তারপর মোবাইল এক্সেসরিজের একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি করেছিলাম। সবারই যেমন ড্রিম থাকে আমারও ছিল, আমেরিকান ড্রিম- নিউ ইয়র্কে একটা বাড়ি করার। ২০১২ সালে আমি বাফেলো শহরে (নিউ ইয়র্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর) গেলাম এবং তিনটা বাড়ি আমার পছন্দ হলো। আমি চাকরি চালায়া গেছি ২০১৫ পর্যন্ত। অবশ্য রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট শুরু করেছিলাম আরো আগে। মানে আমি যখন দেখলাম চাকরির টাকা ব্যবসা থেকেই উঠে আসছে, আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম। আমি দেখলাম, মেহনত-পরিশ্রম করলে রেজাল্ট হয়। আমি রেজাল্ট পেয়েছি। আমার এখন বাফেলোতে ১০০টা বাড়ি আছে। আমি বাড়ি বিক্রি করি নাই, বরং ভাড়া খাটাই। এখন বাড়ির দামও বাড়ছে দুই-তিনগুণ।”

তালহা ও তার দুই পার্টনারের গড়া আল আকসা সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট গত বছরের এপ্রিলে বাফেলোতে যাত্রা শুরু করে। আল আকসা নিউইয়র্কেও জনপ্রিয়। মার্কেট উদ্বোধন করতে এসে মেয়র বায়রন ব্রাউন বলে, ‘বাংলাদেশিরা বাফেলোতে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে।’ প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। ব্যবসা প্রসারে আরো ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা ভাবছেন উদ্যোক্তারা।

তালহা বলেন, “আপনি যদি মানি চেজ করতে চান তবে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। কিন্তু যদি কোনো উদ্দেশ্য সামনে রেখে পরিশ্রম করতে থাকেন তবে আপনি ক্লান্ত হবেন না, টাকা আপনাকে ধরা দেবে। সাফল্য কোনো গন্তব্য নয় বরং এটি প্রক্রিয়া আর এর সঙ্গে স্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি সব জড়িত। ব্যর্থতাই সফলতার খুঁটি-কথাটা খুব সত্য। ব্যর্থ না হলে আপনি সফল হতে পারবেন না অন্তত সাফল্য উদযাপন করতে পারবেন না। আর নতুনদের বলি, চেষ্টা করে যান, হাল ছাড়বেন না, বারবার চেষ্টা করে যান।” সূত্র: টিবিএস






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.