Main Menu

খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিছেন ইতালি যাওয়ার পথে মারা যাওয়া সাজ্জাদের মা

নিউজ ডেস্ক:
‘পাঁচ দিন ধরে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে আছেন সাজ্জাদের মা, বিছানা থাকি ওঠতেছে না, কান্না-কাটি আর আহাজারি করে সময় পার করছে। আমি বিপদে পড়ছি বাবা, আমারে না জানাইয়া পাসপোর্ট কইরা খালি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করত, পরে জমি-জমা বন্ধক দিয়া দালালরে প্রায় আট লাখ টেকা (টাকা) দিছি, আমার ছেলেটারে নিয়া মারছে হেরা (তারা), অহন তার লাশটা যদি পাইরে বাবা, সকলে মিইল্লা চেষ্টা কইরা দেইন।’

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সাজ্জাদুর রহমানের বাবা নূরুল আমিন তালুকদার সোমবার সকালে আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন।

 

রোববার ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পরিচয় জানানো সাত বাংলাদেশির মধ্যে একজন সাজ্জাদুর রহমান। নিহত সাজ্জাদ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের নূরুল আমিন তালুকদার ও রহিমুন্নেছার ছেলে।

কৃষক বাবা নূরুল আমিন তালুকদার ও মা রহিমুন্নেছার ৮ পুত্র কন্যার চার ভাই-চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সাজ্জাদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করে আর পড়াশুনা করেনি। বাবার গৃহস্থ কাজে সহযোগিতা করত। বিদেশ যাবার চেষ্টা ছিল তার ছোটবেলা থেকেই।

কর্মঠ ছেলেটিকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমি-জমা বন্ধক দিয়ে প্রায় দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠান বাবা নূরুল আমিন। এ জন্য দালালকে চার লাখ টাকা দিতে হয়েছে। ওখানে পাঠানোর পর ইতালি পাঠাতে আরও টাকা দাবি করে তারা। পরে আরও চার লাখ টাকা দেওয়া হয়।

নিহত সাজ্জাদের চাচাতো ভাই ভীমখালি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান জানান, তার চাচা নূরুল আমিন তালুকদার মানসিক কষ্টে পড়েছেন। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সাজ্জাদুরের লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বললেন, অফিসিয়ালি আবেদন করছি, দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করছি আমরা।

এর আগে শুক্রবার রাতে দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৭ বাংলাদেশির লাশ সিসিলি প্রদেশের এগ্রিজেন্ডো এলাকার একটি মর্গে রাখা আছে। লাশগুলো দেশে ফেরানোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দূতাবাস। দীর্ঘ সময় তীব্র ঠাণ্ডায় থাকার ফলে ‘হাইপোথার্মিয়া’য় মারা গেছেন ওই বাংলাদেশিরা। সূত্র : যুগান্তর






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.